ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ কর্তৃক অধ্যাপক ড. এম. শমশের আলী'র বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের উপর স্মরণসভা ও দু’আ অনুষ্ঠান কলাভবন সংলগ্ন লেকচার থিয়েটার ভবনস্থ আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে ২৭ আগস্ট (বুধবার) বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি) এর মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এম আবদুল আজিজ, ঢাবি'র পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম তালুকদার, ঢাবি'র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ্ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ী, ঢাবি'র ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মিল্টন কুমার দেব, ঢাবি'র বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যন অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েম ও অধ্যাপক মো. ইলিয়াস, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের অডিও ভিডিও প্রোডাক্টশনের ইনচার্য রাবিয়া নাজরীন, মরহুমের নাতনি ফারিয়া প্রমূখ।
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এম. শমশের আলী ছিলেন একটি নক্ষত্রের নাম। যার সান্নিধ্যে মানুষ আলোকিত হতো, যার দূরদর্শী নেতৃত্বে সাফল্যের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান এগিয়ে যেতো। তিনি এমন একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ ছিলেন যে, সকল দল-মতের উর্ধ্বে উঠে সংকীর্ণতার পরিবর্তে উদারতা দেখাতে পেরেছিলেন এবং আপনজন হতে পেরেছিলেন। তিনি ভোকেশনাল এডুকেশনাল ট্রেনিংয়ে জোরারোপ করেছিলেন, যাতে শিক্ষিতরা পর্যাপ্ত স্কিল সম্পন্ন হয়- কর্মসংস্থানের অভাব না হয়।
অধ্যাপক ড. এম. আবদুল আজিজ বলেন, ইসলামিক এডুকেশন ও ইনটেলেকচুয়াল ডাইমেনশনে বৈশ্বিক ইফোর্ট দেয়ার জন্য তিনি বিআইআইটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন চিন্তন প্রক্রিয়া ভারসাম্যপূর্ণ হলে চিন্তা ভারসাম্যপূর্ণ হয়, আর চিন্তা ভারসাম্যপূর্ণ হলে কাজও ভারসাম্যপূর্ণ হয়। নবীনদের গবেষণা ও আইডিয়ার উন্নয়নকে তিনি গুরুত্ব দিতেন। বিদেশি স্কলারদের মাঝেও বিভিন্ন ইস্যুতে ও জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি এমন স্মার্টলি তুলে ধরতেন যে, ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্য প্রমাণিত হতো, তাদের ইসলামোফোবিয়া দূর হয়ে যেত। দেশের শিক্ষিত মহলেও ইসলামের প্রকৃত ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিদ্যমান ভুল বুঝাবুঝি নিরসনে তিনি ছিলেন অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব।
তিনি আরও বলেন, মরহুম শমশের আলী এমন বিদগ্ধ পন্ডিত ছিলেন যে আন্তর্জাতিক ফোরামের বিভিন্ন প্রোগ্রামে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনায়ও লিডিং রোলে চলে আসতেন। ব্যালেন্সড গ্রুথ অফ আন্ডারস্টান্ডিং তথা আল-ওয়াসাতিয়াতে উনি বিশ্বাসী ছিলেন। বাংলাদেশকে ইন্টারফেইথ ও মাল্টিফেইথ হারমনির মডেল হিসেবে তুলে ধরে সারাবিশ্বে দেশ-জাতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। তিনি উম্মাহর কল্যাণে মিডিয়া সংক্রান্ত চিন্তা-পরামর্শদানে অগ্রসর ছিলেন। ইসলামের একজন সত্যিকারের দাঈ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি পড়, পড়, পড় ও জ্ঞান, জ্ঞান, জ্ঞান ছড়ানোর মাধ্যমে সদকায়ে জারিয়ার কাজ করেছেন।
এছাড়াও বক্তারা বলেন, তিনি ছিলেন সফল শিক্ষক, সফল উদ্যোক্তা, সফল বিজ্ঞানী, সফল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সফল প্রশাসক, সফল লেখক এবং সফল দাঈ। তিনি শিখিয়েছেন কিভাবে সততার সাথে জীবন-যাপন করতে হয়, প্রশ্ন করার সাহস যোগাতে হয়, মানবতার প্রতি দায়বদ্ধ থেকে নিরবে কাজ করে যেতে হয়, ছোটদেরকে অজানাকে জানার প্রতি কৌতুহলী করে তুলতে হয়, সবসময় স্বতঃস্ফূর্ত থেকে প্রাণবন্তভাবে পরিশ্রম করতে হয়। তিনি মনে করতেন সাবজেক্ট নয়, স্কিল অর্জন করলে স্কিল প্রয়োগই ক্যারিয়ারের গতিপথ ঠিক করে দিবে। ভালোবাসাময় বন্ধন ও ফ্যামিলি বন্ডিংয়েও ছিলেন অসাধারণ। জ্ঞানের জন্য ও মানবতার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য।
উল্লেখ্য, জগত বরেণ্য পদার্থ বিজ্ঞানী ও ইসলামী পণ্ডিত মরহুম অধ্যাপক ড. এম. শমসের আলী শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সাথে সংযুক্ত ছিলেন। বিভাগের অনারারী অধ্যাপক হিসাবে তিনি এম. এ ২য় সেমিস্টারের “বিজ্ঞান ও ধর্ম” কোর্সটি পাঠদান করছিলেন। তার অনুপ্রেরণায় ও উৎসাহে বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী নূরুল ইসলাম ১৯৯৯ সনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।